* মাসিক ভাতা ৩ হাজার টাকায় উন্নীতকরণসহ ৩ দফা দাবি তুলল জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’—এই বার্তা ছড়িয়ে রাজধানী ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ‘বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী পথচলার প্রতীক সাদাছড়ির সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় চারশত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ এবং হেরিটেজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফেয়া আবেদীন।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জরুরি ৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়:১. ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকায় উন্নীত করা।২. বিশেষ চিকিৎসাসেবা: সরকারি, বেসরকারি ও আধাসরকারি হাসপাতাল এবং প্যাথলজিক্যাল সেন্টারগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পমূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।৩. কর্মসংস্থান: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সন্তানদের যোগ্যতা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাফেয়া আবেদীন বলেন, “শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনেরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের সুপ্ত সম্ভাবনার স্বাক্ষর রাখছেন। তাঁদের পথচলা নিরাপদ ও মসৃণ করতে উপস্থাপিত ৩ দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারক ও সমাজের বিত্তবানদের আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসা উচিত।”
সংস্থার মহাসচিব আইউব হাওলাদারের স্বাক্ষর সংবলিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ অক্টোবরের এই দিনটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রতিবছর অন্তত ১,০০০টি সাদাছড়ি বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও এ বছর কিছু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সামাজিক পুনর্বাসন ও মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আরও জোরালো মানবিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।





