এম এ হোসেন: রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩ এর আংশিক, ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডের ২০টি মৌজা নিয়ে গঠিত হয় হাজীরহাট থানা। যার আয়তন ৫২.৫৪ বর্গকিলোমিটার আর জনসংখ্যা প্রায় ১,৪৯,২৩৬ জন। অনেকটাই শান্তিপ্রিয় এখানকার মানুষ তবে এখানকার মানুষের জীবনে অশান্তি এনেছেন মাদক।
মাদকই এখন হাজীরহাট থানা এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। পাওয়া যাচ্ছে হাত বাড়ালেই। সূত্র বলছে, থানা পুলিশের সোর্সসহ স্থানীয় নামধারী কিছু নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আড়ালে থাকা কিছু বখাটে নিয়ন্ত্রণ করছেন হাজীরহাট থানা এলাকার এ মাদক ব্যবসা। সচেতন নাগরিকদের মতে, পুলিশের পরোক্ষ সহযোগিতা থাকায় একরকম প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিকিকিনি ও জুয়া খেলা। পাড়া-মহল্লায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা এখন জমজমাট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থানার সোর্সেরা আসামি ধরার নামে পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। যে কারণে সোর্সরূপী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় মাদকের এখন ছড়াছড়ি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অপরাধী গ্রেফতারে নানা তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করাই সোর্সের কাজ। পুলিশ এসব সোর্স নিয়োগ করে অপরাধীদের মধ্য থেকেই। বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পায়। কিন্তু সোর্সেরা অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিয়ে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করছেন। এরা মাঝেমধ্যে বিরোধী গ্রুপের দু-চার জনকে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের ব্যবসা নিরাপদ রাখেন।
সরেজমিনে দেখা যায় সিটির মোড়, মন্থনা, হাজীরহাট হাটের আনাচে-কানাচে, উত্তম হাসনা বাজার, বক্তারপুর, ঘাঘট নদীর পাড়, কেরানীরহাটসহ থানা এলাকার বিভিন্ন অবাধে চলে মাদক সেবন, বিক্রি ও জুয়া খেলা। রাস্তা থেকে অদূরে বসে চলে এসব কর্মকাণ্ড। সন্ধ্যা হলেই বদলে যায় এসব এলাকার চিত্র।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাদকের ব্যবসা হচ্ছে তিনটি ধাপে। একটি দল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাদক নিয়ে আসে। তারা পৌঁছে দেয় রংপুরের এজেন্টদের কাছে। এজেন্টরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে খুচরা বিক্রেতাদের দিয়ে এসব মাদক বিক্রি করায়। দরিদ্র পরিবারের নারী ও শিশুদের মাদক বিক্রি, পরিবহন ও খুচরা বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে নেপথ্যের হোতারা। তারা থেকে যাচ্ছে আইনের নাগালের বাইরে।
মাদকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের সংখ্যা, বাড়ছে অপরাধ।
মাদকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের সংখ্যা, বাড়ছে অপরাধ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর ও যুবকদের স্থান। কয়েকটি গবেষণার প্রতিবেদন বলছে, যুব সমাজের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদার মাদকদ্রব্য এর তালিকায় রয়েছে ইয়াবা। যা এখন মিলছেও সহজে।
সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, মাদক নির্মুল করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। পুলিশের দাবি, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সবাইকে সচেতন করার চেষ্টাও চালাচ্ছি আমরা।
তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পরশুরাম জোনের সহকারী পুলিশ সুপার সোহানুর রহমান সোহান এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যদি কোনো পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।