সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সবুজের বাড়িতে শোকের মাতম

মাহমুদ সানি :
সৌদি আরবে বাস দুর্ঘটনায় রায়পুর উপজেলার ৩ নং চরমোহনা ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের মো. সবুজ হোসাইন (৩০) নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আসির প্রদেশের আবহা এলাকায় একটি ব্রিজের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবুজ রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের ডালি বাড়ীর মো. হারুন ডালির ছেলে। বাড়িতে তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট  এক সন্তান রয়েছে। মঙ্গলবার  সবুজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্বজন ও  স্থানীয় এলাকাবাসী।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে  সবুজ প্রায় ৩ বছর  সৌদি আরবে যায়। সৌদির  আবহা ডিস্ট্রিক্টে একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করে। ঈদের আগে দেশে আসার কথা থাকায় সেই সুবাদে রোজায় ওমরাহ হজ করার জন্য মক্কার উদ্দেশে ছাড়া একটি যাত্রীবাহী বাসে  উঠেছিলেন। বাসটি দেশটির আসিম প্রদেশে পৌঁছলে সেতুর সঙ্গে সংঘর্ষে সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায়  সবুজসহ ৮ বাংলাদেশিসহ ২০ ওমরাহ যাত্রী মারা গেছেন। এছাড়া ঐ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা যায় । সবুজের নিহতের খবর বাড়ি পৌঁছা মাত্রই শুরু হয়েছে শোকের মাতম। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের লাশ সৌদির আল বাহা ডিস্ট্রিক্টের এক হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে বলে পরিবারে পক্ষ থেকে জানিয়েছে।
সবুজের বাবা হারুন জানান, লাশ দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে সে দেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। দূতাবাসের সহায়তা ও পরামর্শক্রমে লাশ দেশে আনা হবে নাকি সে দেশে দাফন করা হবে এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মৃত্যুতে বাড়ি ও ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সবুজের মা বলেন, ‘দ্রুততম সময়ে সরকারি খরচে যেন আমার ছেলের লাশটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়—এই দাবি জানাই।’
চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিক পাঠান জানান, হারুনের ছেলেটি অত্যন্ত ভদ্র প্রকৃতির ছিলেন। সংসারের হাল ধরার জন্য প্রায় তিন বছর আগে সে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র চালিকা শক্তিকে হারিয়ে পরিবারের সবাই এখন দিশাহারা। তাঁর এ অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।