পাঁচ রাউন্ড গুলি খেয়ে’ও রাজপথ ছাড়েনি যুবদল’নেতা

এস,এম,আল,ইমরানঃ পুলিশ ২০১৬ সালে পাঁচ রাউন্ড গুলি করে ঢাকা মেডিকেলে নিহত ভেবে ফেলে রাখা তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ছাড়েনি রাজপথ’ সরকার পতন ও এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।

মাগুরার মোহাম্মদপুরের নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে নয়ন।

উল্লেখঃ মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বিএন’পি নেতারা জানান-রবিউল ইসলাম নয়ন স্কুলজীবন শেষ করে ঢাকা গিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন” তখন তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। পরে তার বিচক্ষণতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর পূর্বে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য ও মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব মনোনীত করেন।

নয়ন ঢাকা ডেইলি প্রতিনিধিকে জানান, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকারকে হটাতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ১৯ বার কারাবরণ করেছি। আমার নামে ২০৬টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ২০১৬ সালে মগবাজার মোড় থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং অমানবিক নির্যাতন করে মৃত ভেবে ঢাকা মেডিকেলে ফেলে রেখেছিল। পরে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটু সুস্থ হওয়ার পর পুলিশ আবার গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড নিয়ে হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলাসহ নানাভাবে অমানবিক শারীরিক মানসিক নির্যাতন করেছে।

তিনি জানান- ২০১৪ সালের ০৬ই জানুয়ারী সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ কতৃক অবৈধ ভাবে আটক করে গুম করে বাংলামোটরের পুলিশ হত্যাকান্ডে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কে জড়িয়ে দায় স্বীকার করতে বলা হলে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করায়।আমাকে হাতকড়া পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এই অমানবিক শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও স্বীকারোক্তি দিতে না চাইলে আমাকে হাত-পা বেঁধে শিং মাছের ড্রামে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে এই অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হই। পরবর্তীতে পাঁচ দিন পরে অর্থাৎ ১১ই জানুয়ারী ২০১৪ইং তারিখ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়।

নয়ন আরো জানান-পুলিশ আমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে গেলে আমি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে রিমান্ডে তার উপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা দেই’এবং হাত ও পায়ে নির্যাতনের আঘাতের ক্ষত চিহ্ন দেখাই। এরপর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে বলেন, “আপনি কাকে নিয়ে এসেছেন,তিনি কিছু বলতে চান না”কি দেখায় এগুলো দেখুন” তাকে এই কোর্টের বারান্দা থেকে ফেলে দেন” মরে গেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন আর হাত পা ভেঙ্গে গেলে এক্সিডেন্ট বলে চালিয়ে দিবেন, দেখেন স্বীকারোক্তি দেয় কি না।” তখন তদন্তকারী অফিসার আমাকে নিয়ে হাজতখানার উপরে মেসে নিয়ে হাত-পা বেঁধে, নগ্ন করে এবং দড়ি দিয়ে ইট ঝুলিয়ে দেয় ও দু’পা ইট দিয়ে মেরে থেতলে দেয়, মুখে গামছা বেঁধে পানি ঢালে, এই অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যাই।এত নির্যাতনের পরেও
আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবো এবং সরকার পতনে রাজপথে সক্রিয় থাকবো।