কিশোরগঞ্জে বিদ্যালয়ে নেই টয়লেট, বিপাকে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা

মোঃ শাকিল ইসলাম:  বিদ্যালয়ে টয়লেট না থাকায় মহাবিপাকে পড়েছে শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রায় দেড় বছরের উপর তারা ভোগান্তিতে রয়েছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম দোলাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আবু হাসনাত একাধিক বার ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পরেও মেলেনি কোনো সমাধান।
বুধবার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি দ্বিতল হলেও নিচে কিংবা উপরে নেই কোন টয়লেটের ব্যবস্থা। টয়লেটের প্রয়োজন হলে শিক্ষক ও  ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই আশে-পাশে বাসাবাড়িতে যাচ্ছে। এতে করে আশে-পাশের বাড়ির লোকজনেরাও বিরক্তবোধ করছেন।
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র লাল চাঁদ মিয়া, চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক মোসাম্মত নার্গিস বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টয়লেট নেই। নিদারুণ কষ্ট সহ্য করছেন তারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পুরাতন টয়লেটের স্থানে নতুন দ্বিতল টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ব্যবহারের জন্য কোন টয়লেট তৈরি করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হাসনাত জানান, টয়লেট ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান কি চলতে পারে? তবুও চলছে কয়েক বছর ধরে। বহুবার বলেও হচ্ছে না সমাধান।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, টয়লেট নির্মানের বরাদ্দ আগে আমাদের অফিস থেকে দেয়া হতো। কিন্তু এখন তা চলে গেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের হাতে। তবুও আমি কথা তাদের সাথে কথা বলবো যাতে দ্রুত কাজটি হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ জানান, ওই স্কুলের ওয়াস ব্লকের টেন্ডার হয়েছে। যে ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন উনি মাটি পরীক্ষা করেছেন। মাটির মান খারাপ হওয়ায় ডিজাইন পরিবর্তন করে কাজটা করতে হবে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ওই ঠিকাদার হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন। ঠিকাদারের পরিবর্তে ওনার ছেলে কাজ করার কথা কিন্তু পিতার মৃত্যুর শোকে উনিও হার্ট অ্যাটাক করে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তাই কাজটি হতে একটু সময় দেরি হচ্ছে।