ডেস্ক রিপোর্টঃ ড.মতিউর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে সম্মান ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রিস্টস ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভ্যাট এবং কাস্টমস বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
যার হাত ধরে নতুন ভাবে ঢেলে সেজেছে কাস্টমস তথা এনবিআর। বিসিএস (শুল্ক ও অবগারী) ১১তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা তার সততা,মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কাস্টমসকে। বর্তমানে তিনি এনবিআরের সদস্য, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট। তার আগে ট্রাইবুনালের সদস্য ছিলেন। ট্রাইবুনালে মামলার জট নিরসনে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সাথে নিয়ে নিষ্পত্তি করেছেন প্রায় চার হাজার মামলা। বর্তমানে ট্রাইবুনালে মামলার জট নেই বললেই চলে।
ট্রাইবুনালের সদস্য থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ৪২১ টি মামলা রানিং পেয়েছেন। আগে যেখানে অসংখ্য মামলা ছিল , সেখানে বর্তমানে শুনানির নিষ্পত্তি ও রায় লেখার জন্য ৩৫০টির মত মামলা রয়েছে। মামলা শুনানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন তিনি। প্রতিটি মামলার তালিকা ও শুনানির তারিখ ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা, মামলা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে আইনজীবীর নাম, ফোন নাম্বার, ইমেইল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে প্রতিকার প্রার্থী পক্ষগণ কোন কিছু মিস না করেন। মামলার তালিকা ও শুনানির তারিখ ওয়েবসাইটে দেওয়ার ফলে কাস্টমস হাউস সময় জানতে পারে, সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ড. মতিউর রহমান জানান, ”স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের সাথে আমরা কাজ করে যাচ্ছ “। ইতোমধ্যে স্মার্ট ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে এনবিআরের সহযোগিতা নিয়ে ‘ডি-নথি’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান স্যার দীর্ঘদিন যাবত চাচ্ছেন ‘কেইস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ তৈরি করতে, আমরাও চেষ্টা চালাচ্ছি। এটা বাস্তবায়ন হলে কাস্টমস হাউস এবং প্রতিষ্ঠান অনলাইনে সবকিছু সাবমিট করতে পারবে, রায় অনলাইনে আপলোড করা হবে, ফলে কাস্টমস ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই সার্বিক ভাবে উপকৃত হবে।
ড. মতিউর রহমান একজন কাস্টমস কর্মকর্তা। এর বাইরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির একজন পরিচালক এবং বরিশাল বিভাগীয় অফিসার্স এসোসিয়েশনর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি বলেন, ‘বরিশাল বিভাগীয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইতোমধ্যে বরিশালের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সকল শ্রেনী পেশায় কর্মরত বরিশালের কৃতি সন্তানদেরকে নিয়ে বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতু, পায়রাবন্দরের পর আমাদের একটা দাবি ছিল সড়ক ছয় লেন করা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরিশাল যাওয়ার পর তা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়াও বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেট বাড়ানো, বরিশাল মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, ভোলা থেকে গ্যাস পায়রায় এনে
এলএনজির সাথে ব্লেন্ডিং করে শিল্পে ব্যবহার, ভোলা থেকে বরিশাল সেতুসহ নানামুখী উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সফলতা আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সেনালী ব্যাংক পিএলসি’র পরিচালক হিসেবে ব্যাংকের বর্তমান স্ট্যাবল পজিশনের পিছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছ।
সম্প্রতি ড. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন , ‘অভিযোগ গুলো সর্বৈব মিথ্যা। প্রথমত যে বাড়ির ছবি দেয়া হয়েছে সেটা আমার না, যিনি বাড়ির মালিক তার ট্যাক্স ফাইল আছে এবং তাতে ইনকামও দেখানো আছ “। দ্বিতীয়ত একটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে তাতে আমার পরিবারের অংশীদারত্ব বা শেয়ার আছে, প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাইল আছে সেখানে সব উল্লেখ্য আছে। তার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
”আমি কাস্টমস বিভাগে চাকরি করে ১০ বছর কাস্টমসের বাইরে ছিলাম। আমি যদি নৈতিক ভাবে শক্ত না হতাম, তাহলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে পারতাম না। কাস্টমসকে আমি ভালোবাসি, যখন যেখানে কাজ করেছি নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি। কেউ আমাকে মূল্যায়ন করতে চাইলে আমার কর্মস্থলে খোঁজ নিতে হবে। আমি মনে করি একজন কর্মকর্তা কর্মস্থলে সৎ কি অসৎ তা দিয়েই তাকে মূল্যায়ন করা উচিত’।