জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিতে মরিয়া সমাজসেবা পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সমাজসেবা অধিদপ্তরের(নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ)শাখার উপ’পরিচালক আইয়ুব খান জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন উৎকোচের বিনিময় ধামাচাপা দিতে মরিয়া,

অন্ধদের কল্যাণে কাজ করার নিমিত্তে ১৯৭৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে,বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি’(বিএনএসবি),বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে,লুটপাটের রাজত্ব করার উদ্দেশ্য নিজেদের মতো কিছু অসাধু ব্যক্তি অনিয়মের মাধ্যমে সংস্থাটির অর্থ খরচ করেছেন বিপুল পরিমাণ।

সরেজমিনে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে,বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি) অন্ধদের কল্যাণে কাজ করার নিমিত্তে সরকার কর্তৃক জমি বরাদ্দ দিয়েছিল। সংস্থাটির পরিচালনা পরিষদ নিজেদেরকে প্রভাবশালী ভেবে প্রতিষ্ঠানটির জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে একাধিক ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন,এবং উক্ত ভবনের রাজউক থেকে কোন প্ল্যানের অনুমোদন নেওয়া হয়নি,সম্প্রতি রাজউক কর্তৃক সংস্থাটিকে চূড়ান্ত নোটিশ ও করেছেন। সংগঠনটি পরিচালনা করার মতো কোন গঠণতন্ত্র সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন না নিয়েই নিজেদের মতো পরিচালনা করে আসছে,যা সম্পূর্ণরূপে বে-আইনি ও অবৈধ। সরকার যাদের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছিল তাদের কল্যাণে কাজ না করে, নিজেদের কল্যাণে কাজ করেছে। পরিচালনা পরিষদ,অন্ধদের কোন কল্যাণে কাজ করেনি বিধায় গত ২৬ নভেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক কার্যক্রম ঢাকা এর বরাবরে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়।

দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকার পরিচালক (কার্যক্রম) কামরুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সাব্বির হোসেন, সমাজসেবা, অফিসার-১, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ শাখা, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সদর কার্যালয়, ঢাকাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। তদন্তে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সংস্থার পক্ষে অনুমোদিত কমিটির কোন তালিকা এবং গঠনতন্ত্র পাওয়া যায়নি। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালনা পরিষদ নিজেদের মতো সংস্থা পরিচালনা করে আসছেন,বিধায় গ্রুপিং ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। সুশাসন ফিরিয়ে আনাসহ সংস্থাটিকে আইনের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং অনুমোদনহীন কার্যনির্বাহী পরিষদ বরখাস্তকরণপূর্বক একজন প্রশাসক অথবা অনধিক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক বডি নিয়োগের সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও সংস্থাটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (নিবন্ধন) আইয়ুব খান। অভিযোগ উঠেছে, উপপরিচালক (নিবন্ধন) আইয়ুব খানকে মোটা অংকের উৎকোচ বিনিময়ে ফাইলের পরবর্তী কার্যক্রম আটকে রেখেছেন জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ড.ফরহাত হোসেন।

এছাড়াও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সকল অনিয়ম ধামাচাপা দিতে সংস্থাটিকে ট্রাস্টি করার গোপন পাঁয়তারা চলছে। আর এতে সহযোগিতা করছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (নিবন্ধন) আইয়ুব খান এবং ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো.রকনুল হক।সংস্থার নির্বাচন আটকে রেখে গোপনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ঢাকা ডেইলির প্রতিবেদক উপ’পরিচালক আইয়ুব খানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।তবে গত কয়েকদিন আগে আইয়ুব খান মুঠোফোনে জানান,অভিযোগের বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার টেবিলে ফাইলটি আছেন,তারা তাদের মতো ব্যবস্থা নিবেন।