স্টাফ রিপোর্টার,রবিনঃ নির্বিচারে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার ভোর রাতে কাউন্দিয়া এলাকায় কফিল ব্রিকসের পাশে ফসলি জমির মাটি কাটার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে রবিবার রাতে সাভার মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক আলতাফ হোসেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন, উপজেলার আলমনগর হাউজিং এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে বশির উদ্দিন মিঠু (৪০) ও কাউন্দিয়া এলাকার মৃত জমসের আলীর ছেলে মতিউর রহমান (৪৩)। এছাড়া মামলার বাকী আসামিরা হলেন, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম রিকু (৩৯), মধ্য কাউন্দিয়া এলাকার আব্দুস সাত্তার এলাকার ইউনুস (৪৪) ও বড়দেশী এলাকার মৃত জহিরের ছেলে মামুন (৪২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাত বছর আগে উত্তর কাউন্দিয়া এলাকায় ৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আলতাফ হোসেন। এরপর বিভিন্ন সময় তার জমি অবৈধভাবে দখল করতে অভিযুক্তরা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এরই জেরে গত মে মাসে ফসলি জমির কিছু অংশের মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করেন অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে এঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। উল্টো অভিযুক্তরা তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ জানান, কাউন্দিয়া এলাকায় অনেক দিন ধরেই অসহায় কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটা গুলোতে বিক্রি করে আসছিলো একটি চক্র। এসব চক্রকে মাটি কাটায় সহায়তা করতেন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার কফিল উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম রিকু। সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় তার ভয়ে অসহায় জমির মালিকরা প্রতিবাদ করতে পারত না। তবে গতকাল একজন মামলা দায়ের করলে মাটি কেটে নেওয়ার সময় হাতেনাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকী আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার দুইজনকে আজ দুপুরে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে।