নিজস্ব প্রতিবেদক:আওয়ামীলীগ সরকারকে পদত্যাগ করে সকল দলের সাথে আলোচনায় বসে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করতে হবে,বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৬ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এটা আমরা আগেও পরিষ্কারভাবে বলেছি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে তারপর সকল দলের স্বার্থে আলোচনায় বসে আমাদের যে দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার তা পুনর্বহাল করতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে যে এটি আসলে এখন একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা দলকেন্দ্রিক সংবিধান হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, এ সংবিধানের তিনটি অনুচ্ছেদ কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। অথচ সংবিধানের মূল যে কথাটি, তা হলো- প্রজাতন্ত্র। জনগণের ইচ্ছায় চলবে। বাংলাদেশের জনগণ চাইলে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে। তা আমাদের সংবিধানের স্পষ্ট করা আছে।’
‘৭২ সালের সংবিধানে মৌলিকভাবে লেখা আছে- সত্যিকার অর্থে দেশটির মালিক থাকবে জনগণ। যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন থাকবে। পার্লামেন্ট সদস্যরা অংশীদারিত্ব ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে জনগণের পছন্দের তালিকা থাকবে। একটা পছন্দের ব্যাপার থাকবে। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে এনাকে না ওনাকে দিতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে যেভাবেই হোক দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এলো। তখন দেখলো একটা সুবর্ণ সুযোগ। ১৯৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ কিন্তু তা রাখতে পারেনি। তারা আবারো সেই একই ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে সংবিধান পরিবর্তন করা শুরু করলো।’
ঈদের পর আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঈদের পর আমাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে। আমাদের সাথে যারা যুগপৎ আন্দোলন করছেন তাদের সাথে কথা বলেছি। ঈদের পর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবো।’
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর তিনি ভালো আছেন। যে সমস্যাগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন, সেসবের সমাধান হয়েছে।’
‘কিন্তু ওনার মূল সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা তো নেই। তার আর্থ্রাইটিস ও হার্টের সমস্যা আছে। চিকিৎসকরা বারবার বলছেন বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা দরকার, কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। এই কারণে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে,’ বলেন ফখরুল।
এর আগে রোববার (২৫ জুন) খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় তার সাথে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল।