খন্দকার মহিবুল হক; প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ঘটনায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে মুক্তির দাবি জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই মুক্তির দাবি জানানো হয়।
এ সময় তারা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই’,‘সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়’, ‘আমাদের জবানের স্বাধীনতা লাগবে’, ‘শামসুজ্জামানের মুক্তি চাই’ ইত্যাদি লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন মাহি বলেন, সংবাদ প্রকাশ করে শামস কোনো অপরাধ করেনি। তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক সাংবাদিকতায় কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চায় ইতোমধ্যে বিষফোঁড়া হয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে এ আইনে এখন পর্যন্ত আটক সকল সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছেন কুবিসাস সভাপতি।
কুবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইউসুফ আকাশ মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “দেশের উন্নয়নে বাক-স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন দেশে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে আটক কখনো ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না। অবিলম্বে সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে মুক্তি দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হোক।”
গত ২৬ মার্চ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সংক্রান্ত সংবাদের জেরে গত বুধবার ভোর চারটার দিকে নিজ বাসা থেকে শামসুজ্জামান শামসকে সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়।
বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পর সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে রমনা থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনা হয় শামসুজ্জামানকে।
শামসুজ্জামানকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ২০ ঘণ্টার বেশি পর গতকাল বুধবার রাতে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এ মামলার প্রধান আসামি। সেই মামলাতেই শামসুজ্জামানকে আজ আদালতে আনা হয়েছে।
আদালত প্রায় আধ ঘন্টা (দুপুর ২.২০ থেকে দুপুর ২.৫০)জামিন শুনানি করে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।