মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা : পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে প্রতি বছরের ন্যায় আগামী ১ এপ্রিল সুন্দরবনের মধু আহরনের আনুষ্ঠানিক ভাবে পাশ পারমিট দেওয়া হবে। অথচ দালাল চক্রের সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা চুক্তিতে সুন্দরবনে চোরাই ভাবে মধু আহরণ অব্যাহত রেখেছে। যার কারণে চোরাই আহরণের বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নেই কোন অভিযান।সুন্দরবন উপকূলীয় একাধিক ব্যক্তিরা জানান, সাতক্ষীরা সহকারী বন সংরক্ষক নূতন আসায় সব কিছু এখনও বুঝে উঠতে পারেনি।
এদিকে একটি দালাল চক্র সুন্দরবন উজাড়ে রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে।ওই দালালদের মাধ্যমে চোরাই মধু আহরণকারীরা পাশ ছাড়ার পূর্বে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ অব্যাহত রেখেছে। ওই দালাল চক্রের মাধ্যমে সুন্দরবনের চলছে বাঘ হরিণ নিধন মূল্যবান কাঠ পাচার ও নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ কাঁকড়া আহরণ। এ সমস্ত ঘটনায় স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব ভূমিকায়। এলাকাবাসী বলছে, বন বিভাগের সহযোগিতা পেয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে শিকারীরা।
সম্প্রতি বন বিভাগ ও সিপিজির সদস্য সহ র্যাব ও কোটগার্ডের সদস্যদের হাতে হরিণ ও বাঘের চামড়া আটক হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের কয়েকটি এলাকায় একাধিক চোরাই শিকারি চক্র সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে। এদের একদল সুন্দরবনে, আরেক দল লোকালয়ে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী বন বিভাগের কাছে হরিণ শিকারিদের ১০৮ জনের একটা তালিকাও রয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে ৪২ জন,কোবাদক স্টেশনে ৩০ জন,কদমতলা স্টেশনে,২০ জন ও কৈখালী স্টেশনে ১৬ জন। তালিকা ছাড়াও আরো অনেকে জড়িত রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপকূলীয় এলাকায় অনেকে জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে, আবার কখনো তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরিণ শিকার করে আসছে। বন বিভাগের তথ্য মতে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৩ শত ৭৬টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ক্যামেরা চুরি করে চোরারা। বিষয়টি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বন বিভাগের নজরে আসে।
১২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোসেন চৌধুরী সুন্দরবনের অভিযান শুরু করে ৫টি নৌকা ও ১৪ জেলেকে নিষিদ্ধ এলাকা থেকে আটক করে ১৪ ফেব্রুয়ারি,বন মামলা প্রদান পূর্বক তাদেরকে জেল হাজতে পাঠান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় শ্যামনগরের সুধীজন বন বিভাগ সহ আইন প্রয়োগ কারী সংস্থাকে আরো তৎপর হওয়া ও তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি করেছে।