স্টাফ রিপোর্টার: নিজের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ও শরীরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। সম্প্রতি ঢাকায় এক পুলিশ কনস্টেবল খুন হওয়া প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
আজ সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত শনিবার ভোরে ঢাকার ফার্মগেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামান তালুকদার খুন হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন ছিনতাইকারীর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘আমাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে, পার্সোনাল বিলংগিংস বা ব্যক্তিগত ছোট জিনিসপত্র ও নিজের শরীরের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রত্যেকের তার নিজেকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রের অবশ্যই নিরাপত্তার দায়িত্ব আছে। কিন্তু কেউ যদি রাতের বেলায় মোবাইলে কথা বলে…। অনেকে গাড়ির মধ্যে বসে কথা বলে কিন্তু মোবাইলটি বাইরে রাখেন। এতে টান দিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’
কনস্টেবল মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনায় ডিএমপির তেজগাঁও থানা-পুলিশ প্রথমে রাব্বিকে (২১) গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্ত মাখা ছুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
রাব্বির তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটন (২১) নামে অপর এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ কামরুল নামে আরও একজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনিও হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামান ভোরে বাস থেকে নেমে ফার্মগেট এলে তিন ছিনতাইকারী তাঁর গতিরোধ করে। এক ছিনতাইকারী তাঁর মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিতে চাইলে বাধা দেন। এ সময় পেছন থেকে একজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। আরেকজন তাঁর বাহুতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর মনিরুজ্জামানের মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুরের দিকে চলে যায়।’
এদিকে ঈদের দিন রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে রাজধানীর হাতিরঝিলে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে। ওই ঘটনায়ও জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের আগে ও পরে মহানগরীতে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটার পর রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টা ১৪৫ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঈদের আগে ১ হাজার ৭৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়