রাজিব মজুমদার:
মীরসরাইয়ের ইছাখালী ও সাহেরখালী ইউনিয়নের চর এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাবে তরমুজের চাষ করা হয়েছে। কিন্তু চৈত্রের বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের খেতের তরমুজ পঁচে গেছে। তরমুজ বিক্রি করে এবার উৎপাদন খরচ না ওঠার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাতে, তরমুজ চাষিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। লাভের পরিবর্তে লোকসানের শঙ্কায় আছেন চাষীরা।
ইছাখালীর চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অকালে ভারী বৃষ্টিতে কিছুকিছু তরমুজ খেতে গাছের গোঁড়ায় পানি জমায় গাছ পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তরমুজের গুটিতে পানি পড়ায় তরমুজ গুটি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছে তরমুজ চাষীরা।
ইছাখালীর চরাঞ্চলের তরমুজ চাষী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অকাল বৃষ্টিতে ফিকে হয়ে গেছে আমাদের স্বপ্ন। লাভ দূরের কথা, আসল টাকা তুলতে পারব কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির পানিতে তরমুজ নষ্ট হয়ে গছে। বৃষ্টিতে তরমুজ খেত নষ্ট না হলে অন্তত ৪০ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারতাম।
আরেক কৃষক মোজাক্কের হোসেন জানান, ১৩ লাখ টাকা খরচে ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। অকাল বৃষ্টিতে অপরিপক্ক অবস্থায় সব ফল পঁচে গেছে। সামনের পূর্ণিমায় যদি আবার গুটি আসে তাহলে লাভ না হলেও খরচের টাকা ওঠানোর আশায় আছি।’
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে, মীরসরাইয়ে ১৩২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ হাজার পিচ করে তরমুজ উৎপাদন হয় তাহলে প্রতি তরমুজ ২শ’ টাকা হারে হলে যার বাজারমূল্য হবে ৮ কোটি টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে লোকসানের আশংকা করছেন তরমুজ চাষীরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, “চলতি মৌসুমে ৪০ জন চাষী উপজেলার ইছাখালী ও সাহেরখালী চরাঞ্চলে ১৩২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করে। অকাল বৃষ্টিতে তরমুজ চাষিরা সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে কৃষকেরা এ ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছি।”