ভুট্টা চাষ এখন ধানের চেয়েও লাভজনক, ভুট্টা চাষে এগিয়ে রংপুর

Exif_JPEG_420
এম এ হোসেন:  রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শস্য উৎপাদন। রংপুর বিভাগের আট জেলায় রয়েছে অসংখ্য নদী, নালা, খাল, বিল ও চরাঞ্চল। একসময় প্রায় প্রতিবছর বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন কৃষকরা। যার প্রভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় চাষাবাদ বিঘ্ন হত। কাজ থাকত না, পড়ে থাকত আবাদি জমি। ফলে এ অঞ্চলের কিছু জেলা ছিল মঙ্গাপীড়িত। কিন্তু গত দুই দশকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসায় বদলে যেতে শুরু করেছে এসব জেলার মানুষের ভাগ্য।
দেশে বছরে ভুট্টার চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। বিপরীতে ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ছিলো ৫৬ লাখ টন। চলতি মৌসুমে বেড়েছে ভুট্টা আবাদের পরিধি। যার অর্ধেক উৎপাদন হয় রংপুর অঞ্চলে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লাখ টনেরও বেশি বলছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এদিকে, দেশে ভুট্টা বীজের বাজার ১ হাজার কোটি টাকার মতো। বলা চলে এই বীজ পুরোটাই আমদানি নির্ভর। চলতি বছরে ৩৭ জাতের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা আবাদ করেছেন রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা। এর মধ্যে দেশীয় উদ্ভাবিত জাত বারি রয়েছে মাত্র ২টি।
এ বিষয়ে রংপুরের কৃষকরা বলছেন, দেশীয় জাতগুলোর মাঠ পর্যায়ে খুব একটা প্রচারণা নেই এবং ফলনও কম। অন্যদিকে বিদেশি বীজের ফলনও বেশি এবং প্রাপ্তিও সহজ। তাই আমরা বিদেশি বীজ বেশি ব্যবহার করি।
কৃষক নবাব আলী ও মেরাজ উদ্দিন জানান, প্রতি একর জমিতে ভুট্টা চাষ করতে খরচ পড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। আর ভুট্টা উৎপাদন হয় ৭৫ থেকে ৮০ মণের মতো। প্রতি মণ ভুট্টা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭শ থেকে হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি একরে ভুট্টা চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়। ধান চাষে খরচ যেমন বেশি আবার ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না। সে কারণে বোরো ধান চাষ না করে ভুট্টা চাষ করেছেন তারা। একই এলাকার কৃষক আজমা বেগম জানান, মূলত চরাঞ্চলের জমিতে ভুট্টা চাষ বেশি হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির দখলে এ দেশে ভুট্টা বীজের বাজার। দেশে ভুট্টা বীজের ৯৮ শতাংশই বিদেশ থেকে আনা। এ অঙ্ক কমিয়ে আনার জন্য আমরাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।
তবে ভুট্টা গবেষনা ইনিস্টিটিউট বলছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১৫ শতাংশ বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও বানিজ্যিক সম্ভবনা রয়েছে এমন নতুন জাত নিয়েও চলছে গবেষনা।