বৃত্তি সুবিধা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জবি শিক্ষার্থীদের

 

জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পেলেও আইটি জটিলতায় সম্পূর্ণ বেতন দিয়েই ভর্তি হতে হচ্ছে তাদেরকে। বিভিন্ন বিভাগের ভর্তির মেয়াদ শেষ হলেও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্যানেলে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা সমন্বয় হয়নি। আবার নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে জরিমানা শুরু হতে থাকে৷ বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় বৃত্তির টাকার কি হবে এই আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
 স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা একই ভোগান্তির শিকার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তারা বিষয়টি নিয়ে আইসিটি সেলে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন বৃত্তি শাখা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা পাঠানো হয়নি আইসিটি সেলে তাই বৃত্তি শাখা কিংবা রেজিস্ট্রার দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তার দাবি দীর্ঘসূত্রিতা রোধে শিক্ষার্থীদের প্যানেলে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা সমন্বয় করার কাজটি এবার আইসিটি সেল থেকে সরাসরি বৃত্তি শাখার তত্ত্বাবধানে আনা হয়েছে।
 ভোগান্তির শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন, আমার ভর্তির তারিখ শেষ হবে আগামীকাল (৮ জুলাই)। আমি অবৈতনিক বৃত্তি পেয়েছি। কিন্তু আমি এখনো ভর্তি হতে পারিনি কারণ আমার আইডিতে এখনো বৃত্তির টাকা সমন্বয় করা হয়নি। এতে সম্পূর্ণ ফি’ই দেখাচ্ছে। আজও যদি আমার টাকা সমন্বয় করা না হয় তাহলে হয়তো আমার সম্পূর্ণ টাকা দিয়েই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর আমি যদি সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে ভর্তিই হয়ে যাই তাহলে আমার বৃত্তি পেয়ে লাভটাই কি হলো?
 চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউর রহমান বলেন, বৃত্তির লিস্টে আমার নাম দেখেছি গত মাসেই। কিন্তু এখনো সার্ভারে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি আমার আইডিতে সম্পূর্ণ ফি’ই দেখাচ্ছে। অথচ বৃত্তি পাওয়ায় ৬০০ টাকা কমার কথা। অপেক্ষা করতে করতে ভর্তির সময় শেষ হতে চলছে। অনেকেই জরিমানার ভয়ে পুরো টাকা দিয়েই ভর্তি হয়েছে। এমন সিস্টেম আমাদের ভোগান্তি বাড়ায়।
 ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, এখনো আমার বৃত্তির টাকা সেমিস্টার ভর্তি ফি’র সাথে সমন্বয় হয়নি। কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা সেটাও বুঝতে পারছিনা৷ আগেও একবার বৃত্তি পেয়েছিলাম। তখনও এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, সাধারণত বৃত্তি প্যানেল তাদের কাজ শেষ করে আমাদের কাছে নথি প্রদান করে, তখন আমরা বাকী কার্যক্রম সম্পন্ন করি। বৃত্তি প্যানেল বৃত্তি সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের কাজ শেষেই সবকিছুর সমাধান হবে। যাদের বৃত্তি খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজন তারা বৃত্তি প্যানেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোসা: আশরা-উন-আকতার তুহিন বলেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্যানেলে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা সমন্বয় করার কাজটি আইসিটি সেল থেকে বৃত্তি শাখার তত্ত্বাবধানে আনা হয়েছে গতকাল। সবার প্যানেলে বৃত্তির টাকা সমন্বয় করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করি।
 তিনি বলেন, এখন আর আইসিটি সেলে যোগাযোগ করতে হবেনা৷ প্রয়োজনসাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি শাখায় এসে যোগাযোগ করতে পারবে, তাহলে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ আর যাদের ভর্তির সময় শেষ বা সম্পূর্ণ ফি দিয়েই ভর্তি হয়েছে তাদের টাকা পরবর্তী সেমিস্টারে সমন্বয় করা হবে।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি নীতিমালা-২০১৩ এর আলোকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও অবৈতনিক বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গত ১৪ মার্চ রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ফরমে বৃত্তির জন্য আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা৷ শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাই শেষে গত জুনে বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা স্ব স্ব বিভাগে পাঠানো হয়। মেধা ও অবৈতনিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সেমিস্টারে ভর্তির ফি’র সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সমন্বয় করা হয়।