বামনায় কাজ না করে প্রকল্পের ৩০০ শত টন চাল আত্মসাৎ অভিযোগ,

শাহিন গাজী :বরগুনা বামনা উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই ৩০০ শত টন চাল সহ ৯০ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বামনা উপজেলায় তিনটি প্রকল্প নাম উল্লেখ করে গত ১৩ জুন ২০২৩ বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকটি পাঠান যাহার স্মারক নং ৫১.০১.০০০০.০১১.১৪.০৭৫.১৯০-উক্ত স্মারকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ৩ টি প্রকল্পের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি কাবিখা-কাবিটা সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্পে ৩০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র, রতন শীলের বাসা হইতে আজিজ ডা: বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাটের ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ , এলজিআরডি রাস্তা থেকে হিন্দু পাড়া দফাদার বাড়ি পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা সংস্কার, ১০০ মেট্রিক টন চাল, খলিল মুন্সির বাড়ি থেকে রিয়াজ মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা নির্মাণ ১০০ মেট্রিক টন চাল,এই সকল প্রকল্পে কোন কাজের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ উক্ত তিনটি পরিকল্পের কাজ না করে ৩০০ শত মেট্রিক টন চালের বিল, সিপিসি-উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদার, ডৌয়াতলা সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার জাহানারা, বামনা সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তুহিন আকন, উপজেলা রাজনৈতিক মহলের একটি চক্র,পিআইও এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যোগসাজসে, প্রকল্পের কোন কাজ না করেই ৩০০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, এছাড়াও বামনা উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ মাঠে মাটি ভরাট সহ ৪০ টি প্রকল্প নামে ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে।উক্ত প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের চাল আত্মসাৎবিষয়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, আমাকে ১০০ টন চালের সিপিসি দিয়েছেন কাজ করার জন্য, কিন্তু জুন মাস শেষ ও ঈদ চলে আসায় কাজ করতে পারিনি।বিল উত্তোলনের বিষয় তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন। জুন মাস শেষ হয়ে যাওয়ায় বিল উত্তোলন করে উপজেলা পিআইও কাছে টাকা জমা আছে। আমরা অতি দ্রুত কাজ চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

অন্য এক সিপিসি তুহিন আকন ইউপি সদস্য মুঠোফোনে বলেন, আমাকে একটি কাজের সিপিসি বানানো হয়েছে কিন্তু জুন মাস শেষ হওয়ায় এবং ঈদ চলে আসায়, বিল উত্তোলন করে উপজেলা পিআইওর কাছে টাকা জমা রাখা আছে, এখন ঈদ শেষ হয়েছে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পিআইও সাথে কথা বলে কাজ শুরু করবো।

বিল উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, এটি বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে জুন মাস শেষ হওয়ায় ,এবং বর্তমানে বর্ষা মৌসুম থাকায় আমরা কাজ করতে পারিনি,প্রকল্প অনুযায়ী পে অর্ডার করে বিল জমা রাখা হয়েছে।বর্ষা একটু কমলে আমরা কাজ চালু করবো।

অনিয়মের বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্তরা হালদার মুঠোফোনে বলেন, যেহেতু বিশেষ বরাদ্দ ছিল সময় সংকট থাকায় কাজ হয়তো সম্পূর্ণ করতে পারেননি, আপনি এই বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করেন উক্ত বিষয়ের সম্পূর্ণ বিষয়টি জানতে পারবেন।