জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে নানা অনিয়ম করে স্কুল থেকে সুবিধা ভোগ করেন তিনি। জুনিয়র শিক্ষক হয়েও জালিয়াতি করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে উন্নতি পেয়ে সেই পদমর্যাদার বেতনভাতা ভোগ করছেন দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়, স্কুলের শিক্ষক হয়েও কলেজের সমন্বয়ক হিসেবে নিজের সাইনবোর্ড লাগানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসন ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও তার এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
সূত্রে জানা যায়, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল শাখার শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল মোল্লা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের একক প্রভাব-আধিপত্য বিরাজ করতে চান। স্কুলের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ২০০ টাকা ফি নেওয়ার পর আবার জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন তিনি৷ এভাবে ও শ্রেণীর আর্টস-কমার্স-সাইন্সের শিক্ষার্থীদের থেকে ৩০ টাকা করে মোটা অংকের টাকা উঠিয়েছেন তিনি। এক্সটার্নাল হিসেবে ঢাকা গভর্মেন্ট মুসলিম হাই স্কুলের শিক্ষকদেরকে আপ্যায়নের কথা বলে এ টাকা উঠান তিনি। যা পুরোপুরি নিয়ম বহির্ভূত। বিষয়টি নিয়ে চরম মাত্রায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালের পহেলা জানুয়ারি পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো. আব্দুল আউয়াল মোল্লা। সহকারী শিক্ষক হলেও পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় কলেজ শাখার সমন্বয়ক হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন তিনি৷ এ জন্য স্কু্লের ফান্ড থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পেয়ে থাকেন। স্কুলের একজন শিক্ষক কিভাবে কলেজ শাখার সমন্বয়ক হয় এমন প্রশ্ন খোদ বাকি শিক্ষকদের মনে।
সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক জনাব আব্দুল আউয়াল মোল্লা বিগত ০১/০১/১৯৯৩ তারিখে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদানও করেন । কিন্তু তিনি তখন এমপিও ভুক্ত হতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি ২০০২ সালের মে মাসে সহকারী শিক্ষকের স্কেলে নিয়োগ পত্রের স্বাক্ষর জাল করে এমপিও ভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি নবম গ্রেডে বেতন ভাতা পাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে তিনি যোগদান পত্রের স্বাক্ষর জাল করে সহকারী শিক্ষকের স্কেল নিয়েছেন।
কিন্তু তার পূর্বে ০১/০২/১৯৯১ তারিখে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জনাব নিত্য রঞ্জন রায় জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এবং ঐ মাসেই এমপিও ভুক্ত হন। তিনি বিএ বিএড সনদ দারী হয়েও বর্তমানে জুনিয়র শিক্ষকই রয়ে গেছেন। তিনি দুই দুইবার আবেদন করেও উচ্চতর স্কেল পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোগজ স্কুলের এক শিক্ষক বলেন,
বিভিন্ন সময়ে জুনিয়র শিক্ষকের চাকরিচ্যুত করার হুমকি, শিক্ষক মিলনায়তনে নিজের একক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করছেন তিনি। খোদ প্রধান শিক্ষক ও উপর মহলের আস্থাভাজন হওয়ায় ভয়ে সহসায় কেউ মুখ খুলেননা তার বিরুদ্ধে। আর এসবের জেরেই স্কুলে নিজের একক বলয় তৈরী করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গভ: মুসলিম স্কুলের শিক্ষকদের নাস্তা খাওয়ানোর কথা বলে সদ্য যারা এসএসসি দিয়েছে ২৫০ জনের তাদের থেকে ৩০ টাকা করে নিয়েছে। অনেক গার্ডিয়ান এ বিষয়ে আমাকে অভিযোগ করছেন।
কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফর্ম ফিলাপের সময় প্র্যাকটিকাল খাতার জন্য টাকা দিয়েছি। এরপরেও আমাদের থেকে খাতা জমা দেওয়ার সময় ৩০ টাকা করে নিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল শাখার শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল মোল্লা বলেন, আমি কোন শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা তুলিনি। এ বিষয়ে আমাদের অধ্যক্ষ ভালো জানেন। টাকা তোলাতে আমার কোন নির্দেশ ছিল না। এ বিষয়ে আপনি অধ্যক্ষ কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি আরও বলেন, আমি কলেজের সমন্বয়ক ইচ্ছে করে হইনি। আমাকে বানানো হয়েছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি।
জুনিয়র থেকে সহকারী শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে কোন বিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষক পদ নেই।
যারা জুনিয়র হিসেবে ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ তাদেরকে অটো সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যে অভিযোগ এসেছে এটা ভিত্তিহীন , আমার সব কাগজপত্র স্কুলে রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন,প্র্যাকটিকাল খাতার জন্য ৩০ টাকার তোলা অযৌক্তিক।এ বিষয়ে গার্ডিয়ানরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিব। শিক্ষক আউয়ালের নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি তার যোগ্যতা দিয়ে এমপিও পেয়েছেন ২০০২ সালে। ওই সময় আমি অধ্যক্ষ ছিলাম না।
সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পোগজ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি অধ্যাপক ড.কামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, স্কুলের বিষয়ে সারাদিন অভিযোগ আসে। অনিয়ম করে টাকা তোলা, শিক্ষকদের পদন্নোতি এসব বিষয়ে অভিযোগ আসছে। এসকল বিষয়ে নিয়ে বসব শীঘ্রই।