স্টাফ রিপোর্টারঃরাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে হাসঁফাঁস অবস্থা সবার। এর মধ্যে একটু স্বস্তির আশায় ডাবের পানিতে চুমুক দিতে গিয়ে পকেট পুড়ছে তৃষ্ণার্তদের। কারণ, গরম যত বাড়ছে, পণ্যটির দামও তত আকাশচুম্বী হচ্ছে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ এই ফলের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। খুচরা ও পাইকারি বাজারে যে যেভাবে পারছে দাম বাড়াচ্ছে। খুচরায় এখন প্রতি পিসের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। অথচ ঈদের আগে এ ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া গেছে।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা যাত্রাবাড়ী মোড়ে ডাব বিক্রি করছিলেন মো. ইয়াসিন। দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৫০ টাকা পিস। ১২০ টাকার ছোট ডাব ছিল, শেষ হয়ে গেছে।’ কিছুদিন আগে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডাব এখন কেন এত দাম জানতে চাইলে খুচরা এ বিক্রেতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘নিলে নেন, না নিলে এত কথার টাইম নাই।’ বিক্রেতার এমন মেজাজে এক ক্রেতা ঠাট্টার ছলে বলে উঠলেন, ‘গরমে চাহিদা তুঙ্গে। তাই ডাবের সঙ্গে বিক্রেতাদেরও দাম বেড়ে গেছে।’
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় দেখা গেল, সেখানে দাম আরও বেশি। বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।
আকাশচুম্বী দাম সত্ত্বে¡ও রোগীর স্বজনরা তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সঙ্গে রাজ্যের আক্ষেপ করছেন তারা। এমনই এক ব্যক্তি মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, এই গরমে চিকিৎসক রোগীকে ডাবের পানি খাওয়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বাড়তি দাম হলেও কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
আরেক ক্রেতা মো. আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, এত টাকার ডাবেও স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। ভালো দাম পেতে পরিপক্ক হওয়ার আগেই গাছ থেকে পেড়ে ফেলা হচ্ছে।
বাড়তি দাম নিয়ে কথা হলে রাজধানীর কাওরানবাজারের ডাবের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রিপন মোল্লা বলেন, সাধারণত বৈশাখ মাসে এমনিতেই ডাবের দাম চড়া থাকে। তবে গরমের তীব্রতার কারণে এবার চাহিদা বেশি বাড়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। ঈদের আগে পাইকারিতে ৮ হাজার টাকার আশপাশে বিক্রি হওয়া ১০০ পিস ডাবের দাম এখন ১০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আকার ও প্রকার ভেদে আরও বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে।
আড়তের কিছু দূর পরেই খুচরা দোকান। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ১০০ টাকার ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে। কয়েক কদমের ব্যবধানে পিস প্রতি ২০ টাকার বেশি দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘লাভ না করলে ব্যবসা চালাবো কিভাবে।’
এদিকে যাত্রাবাড়ীর ডাবের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গাছ থেকে ডাবের পিস কেনা পড়ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। গাছ থেকে কেনার পর ফড়িয়ারা স্থানীয় মোকামে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বাছাইয়ের পর তা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। এক্ষেত্রে দফায় দফায় পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হয়ে শহরের পাইকারি বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১০০ টাকার মতো খরচ পড়ে বলে দাবি পাইকারদের। যা খুচরায় আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়া বাজার চাঙ্গা হওয়ায় গাছ থেকে কেনা দামও এখন বেড়েছে বলে জানান তারা।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এর আগেও চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ডাবের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। সর্বশেষ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান ও তৎপরতায় দাম কমে আসে। কিন্তু গরম বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত লাভ করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। ডাবের বাজারে আবারও নৈরাজ্য শুরু হয়েছে।