নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ বরগুনা ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নূরুল ইসলামের সঙ্গে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জেলেদের কল্যাণ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সমুদ্রপথে মাদক পাচার প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অন্য দেশের যুদ্ধ, সংঘাত বা নাশকতার কারণে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সমুদ্রের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অন্যান্য দেশের ন্যায় মাছ ধরার নৌকায় রঙভিত্তিক (কালার কোড) পরিচিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জেলেদের অবস্থান শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জিপিএস ট্র্যাকার সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার,জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, দেশের জেলেদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার সংযোজন করা হলে সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া সমুদ্রে মাছ আহরণ,মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সমুদ্রপথে মাদক পাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
সভায় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া সংবাদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও এবং এসবের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।





