জাবি প্রক্টর মহা-অপরাধ করেছেন:কবি ফরহাদ মজহার

জাবি প্রতিনিধিঃসরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য এবং ইসলামিক পাঠচক্র আয়োজনের অভিযোগ এনে গত ৭ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন জব্দ করে দুদিন আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রক্টরের অপসারণ দাবি করেছেন বিশিষ্ট কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার।

তার নিজের নামীয় ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ থেকে উক্ত ঘটনাকে ‘মহা-অপরাধ’ উল্লেখ করে তিনি এ দাবি জানান।
ফরহাদ মজহার তার ফেসবুক পেজে শুক্রবার যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল হাসান ৪৭ ব্যাচের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেলের পাসওয়ার্ডসহ মোবাইল ফোন সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালন ও জঙ্গিবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে জব্দ করেছেন এবং দুইদিন জব্দ রাখার পর ফিরিয়ে দিয়েছেন। ‘আজাদি’, ‘জাহেলিয়াত’, ‘হুকুমাত’- এইসব নাকি জঙ্গিবাদী শব্দ। কিন্তু জব্দ করা মোবাইলে দুই দিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কথোপকথন কিংবা নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়েছে। আ স ম ফিরোজ-উল হাসান কি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি ধরার জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন? নাকি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার সহায়ক ভূমিকা পালন করবার জন্য?
তিনি আরও দাবি করেন, ‘নাগরিকদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন করে তিনি বর্তমান ফ্যাসিস্ট পরিস্থিতিতে ‘মহা-অপরাধ’ করেছেন, সেই অপরাধের বিচার হওয়া দরকার। নিদেন পক্ষে তাকে অবশ্যই সব শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ তিনি সব শিক্ষার্থীর প্রাইভেসির জন্য হুমকি। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করা দরকার। এই সময় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা এবং স্কুলে নিজ নিজ নেতৃত্বে তরুণদের পাঠচক্র সংগঠিত করা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে জ্ঞানচর্চা রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে বহু আগে। এগুলো সার্টিফিকেট বেচা-বিক্রির দোকান বা ব্যবসায়িক করপোরেশন হয়ে গিয়েছে। তাহলে জ্ঞানবিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে বিচরণের ক্ষমতা অর্জনের ওপর বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। এই বাস্তবতায় ‘স্ব-চিন্তন’ নামক একটি পাঠচক্র তরুণরা আয়োজন করছে। তাকে উৎসাহিত না করে আ স ম ফিরোজ-উল হাসান শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মোবাইল কেড়ে নিয়েছেন। এটা মহা-অপরাধ। একে উপেক্ষা করবার সুযোগ নাই।