ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে তলিয়ে গেছে সুন্দরবন

খুলনা প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নদী-খালের পানি বেড়েছে কমপক্ষে ৪-৫ ফুট।এতে ডুবে গেছে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় কয়েক ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে বন ও সংলগ্ন এলাকা।

আজ রবিবার দুপুরের দিকে জোয়ারে তলিয়ে যায় করমজল পর্যটনকেন্দ্র। তবে সেখানকার বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের প্রাণীরা নিরাপদে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম আমাদের সময়কে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সুন্দরবনের বন্য পশু প্রজনন কেন্দ্র করমজল, দুবলার চর, শ্যালাবুনিয়া, আলোরকোল, কুকিলমুনিসহ সুন্দর বনের বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। এছাড়া দুবলার চরের জেটিও পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি কোনো কোনো জায়গায় ৪-৫ ফুট পানি উঠেছে। জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় কমরজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র তলিয়ে গেছে।’

মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন ও মোংলা উপকূল অতিক্রম করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় আছড়ে পড়বে।’

ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি নিয়ে মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইতোমধ্যে মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কাজ ও রোগীদের কথা চিন্তা করে ফেরি চালু রাখা হয়েছে। পৌর শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আনার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

এদিকে, আজ দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘আশঙ্কার তুলনায় আগেভাগেই ঘূর্ণিঝড় রিমালের অগ্রভাগের প্রভাবে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বাতাসের তোড়ে এসব এলাকায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকার ৮ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’