কেরানীগঞ্জে কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ও কলাতিয়া  সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় খননের নামে সীমানা নির্ধারণ না করে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটে বিক্রি করা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকার শতশত কৃষকরা। পরিবেশ বিরোধী মাহিন্দ্রা ট্রাক দিয়ে অসাধু ভাবে মাটিদস্যু সিরাজ বাহীনি কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রয় করা অভিযোগ করছে স্থানীয় কৃষকেরা। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা আর্দশ পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্প রোডের পাশে কৃষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচিতে গ্রামের প্রায় কয়েক শতাধিক কৃষক ও ভুক্তভোগীরা অংশ নেন। পরে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও মাটিদস্যু সিরাজ সহ ভুমিদস্যুদের  বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিলে তারা আইন না মেনে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন। রোহিতপুর ইউনিয়ন মুগারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, জলাশায় খননের নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সেই মাটি গভীর করে কাটা হচ্ছে । মাটিকাটার ফলে আশপাশের জমির মালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া জমি উর্বরতা হারাচ্ছে ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের উদ্যোগ নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য,  উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকে বরাবারে স্বরকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আফজাজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন তিন ফসলি জমি রক্ষার। কিন্তু তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। এতে জমির ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারবে না। তখন খাদ্য সংকট দেখা দিবে। আব্দুল রহমান বলেন, যেখানে ইরি, বোরোধান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা হয়। জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে  এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে কিন্তু থানা পুলিশ দেখও না করছে বান করছে । মাটিদস্যুরা কেরানীগঞ্জ রোহিতপুর, ধীতপুর, কাজিরগাঁও, কুমলি, আব্দুল্লাহপুর, কলাতিয়া, কুন্ডা, বনগ্রাম, মুগারচর সোনাকান্দা সহ বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও হাউজিং প্রকল্পে মালিকদের কাছে বিক্রি দিচ্ছে। এসব মাটি বিক্রি কমিশন পাচ্ছে থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা। দেওয়ায় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও তার জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।হাজি মতিউর রহমান বলেন,কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলায় এর উর্বরতা হারিয়ে যায়। তবে ভূমিদস্যুরা যেভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে, তাতে ওই সব এলাকার কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ছাড়া ওই এলাকার নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনও হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্থ হোসনে আরা সপ্না জানান ধীতপুর মৌজায় আর এস ১৬১ দাগে ১৫ শতাংশ ফজলি জমি প্রায় ১০ ফুট গভীর করে ভুমিদস্যু হানিফ খাঁ, হালিম খাঁ, শাহ আলম খাঁ, বাদল, বাবুল ও কামরুল মাটি কেটে বিক্রি করে দেয়। এব্যাপার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে থানা পুলিশ এখও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পুরাণ ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী হাসান অভিযোগ করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ধীতপুর মৌজায় তার ৩৫ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে। গত সাপ্তাহে ভুমিদস্যু কামরু, বাবুল ও বাদল তার জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছে। এব্যাপারে তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের কাছে বিচার দিয়েও কোন ফল পাননি। এসব অভিযোগ ও মানববন্ধনের  বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিম জানতে চাইলে তিনি জানান অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো ও ভাটায় আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষার্থে মাটি কাটার যন্ত্র (এ্যাস্কেভেটর) জব্দসহ জরিমানা করা হচ্ছে। গত মে মাসে মাটিদস্যু ও ভুমিদস্যুরা জয়নাল সহ তিনজকে নিয়মিত মামলা  দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।  ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত  কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কেউ যাদি  ফসলি জমির মাটি কাটে কাটে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।