অস্তিত্ববিহীন প্রকল্পের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের,

 

জহিরুল আলম রুমি, বামনা(বরগুনা)প্রতিনিধি:

বরগুনার বামনা উপজেলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের ২২-২৩ অর্থ বছরে বরাদ্দ দেওয়া গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষনের(টিআর) ৯০ লাখ টাকা ও গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) প্রকল্পের ৩০০ মে.টন চাল বিভিন্ন ভৌতিক প্রকল্প তৈরী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আত্মসাত করার অভিযোগ তোলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।উক্ত বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বামনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে। বরগুনা জেলা প্রশাসক আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

আজ বুধবার (১২ জুলাই) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওই সকল প্রকল্প কমিটির কাছ থেকে ছাড় করা ১ কোটি ২লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তার যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা দেন।

জানা গেছে,বামনা উপজেলার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় থেকে ২১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুকুলে ৪০টি প্রকল্পের অনুকুলে টিআর এর ৯০ লাখ টাকা ও তিনটি কাবিখা প্রকল্পের অনুকুলে ৩০০ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়। পরে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রান শাখা থেকে ১৪জুন বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকুলে উপ-বরাদ্ধ দেওয়া হয়। টাকা ও চাল আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় কর্তৃক বরাদ্দ পাওয়া গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) প্রকল্পের ৩০০ মে.টন চাল বিভিন্ন ভৌতিক নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে এসকল প্রকল্পের কোন অস্থিত্ব নেই। ওই প্রকল্পগুলো হলো রতনশীলের বাসা থেকে আজিজ ডা.বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুপাশ মাটি দ্বারা ভরাট, এলজিইডির রাস্তা থেকে শুরু করে হিন্দুপাড়া হয়ে দফাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কার ও খলিল মুন্সী বাড়ি থেকে রিয়াজ মুন্সী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা নির্মাণ। এই প্রকল্পগুলোর কোন অস্তিত্ব নেই।

আত্মসাতের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে টাকা ও চাল ফেরত দেওয়ার জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেওয়ার পরে অবিক্রিত ১৫০ মে.টন চাল খাদ্য গুদামে ফেরত পাঠানো হয়। আর আত্মসাতকৃত ১৫০ মেঃটন চালের ৭২ লাখ টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই টাকা থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাবিখার চাল বিক্রি বাবদ ৪৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বামনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের ঢাকাস্থ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখায় জমা রাখা হয়েছিলো ৩০ লাখ। মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তাকে ঘুষ বাবদ তার ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছিলো ১০ লাখ টাকা বাকি ৫লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা হস্তম ওজুত রাখে। কাবিখা প্রকল্পের রতনশীলের বাসা থেকে আজিজ ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ মাটি দিয়ে ভরাটের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। ঐ প্রকল্পের আজিজ ডাক্তার ওই কর্মকর্তার বাবা। ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য। তিনি প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বড় ভাইয়ের কাছের বন্ধু। প্রকল্প অনুমোদন করার জন্য ওই কর্মকর্তাকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাইসুরা বেগম জানান,শেষ বছর হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে দুটি এবং মন্ত্রী মহোদয়ের স্টাফ হিসেবে দুটি প্রকল্প দিয়েছে। সেই চার প্রকল্পের ১০ লাখ টাকা আমার বড় ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে এনেছিলাম পরে কাজ করে দিব বলে। ইউএনও মহোদয়কে সোমবার ১০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। ‘