নিজস্ব প্রতিবেদক:অধিকার সামাজিক মর্যাদা এবং স্বাধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষেরা। সাদা ছড়ি হাতে এবং সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরতে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সমবেত হন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন‘জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা’র সদস্য ও সমর্থকরা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান-২ কার্যালয়ের (বাড়ি নম্বর-৮৬, সড়ক নম্বর-৮৬/৮৮) সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি ও অবস্থান গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আধিপত্য মানি না, মানবো না’।
কর্মসূচির একপর্যায়ে সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান শ্রী মাধব চন্দ্র সরকার, মো. রিপন মোল্লা, মো. গফফার হোসেন ও তানভীর।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।
পরবর্তীতে প্রস্তুতকৃত স্মারকলিপিটি কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রধান দাবিসমূহ:বকশীবাজারের ৬ নম্বর অরফানেজ রোডের বাড়িটি ‘জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা’র নামে বিনামূল্যে ইজারা প্রদান।
ভাতা ও কর্মসংস্থান: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা বাড়ানো এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
বিনামূল্যে চিকিৎসা: সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষ ছাড়।
স্বচ্ছতা ও স্বাধিকার: সংগঠনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অহেতুক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা।
‘অনুকম্পা নয়, চাই ন্যায্য অধিকার এ সময় বক্তারা স্পষ্ট জানান, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পা চান না; বরং নাগরিক হিসেবে নিজেদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চান। প্রতিনিধি দলের নেতারা বলেন, “এই দাবিগুলো কেবল একটি সংগঠনের নয়, এটি দেশের গোটা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও টিকে থাকার লড়াই।” তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।





